
মোঃ জসীম মিয়া
মাদারীপুর ।
১৯৭১ সালের এই দিনে মাদারীপুরের সদর উপজেলার সমাদ্দার ব্রিজ এলাকায় টানা ৩৬ ঘণ্টার তুমুল সম্মুখযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী পরাজিত হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। আর সেই মুহূর্তেই শত্রুমুক্ত হয় মাদারীপুর।
হানাদার মুক্ত হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে হাজারো মানুষ রাস্তা-ঘাটে নেমে আসে। বাঁধভাঙা আনন্দ উচ্ছ্বাসে মুক্তির জয়গানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মাদারীপুর। তবে এ যুদ্ধের মাশুল দিতে হয়েছে চরমভাবে—শহীদ হন জেলার সর্বকনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা সরোয়ার হোসেন বাচ্চু।
১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের প্রথম দিক থেকেই মাদারীপুরের সব থানা মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। কোণঠাসা হয়ে পড়ায় পাক সেনারা নাজিমউদ্দিন কলেজসহ বিভিন্ন স্থাপনায় আশ্রয় নেয়। এরই মাঝে গোপন সংবাদে জানা যায়, তারা মাদারীপুর থেকে ফরিদপুরে পলায়নের চেষ্টা করছে।
সংবাদ পেয়ে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় তিনশোর বেশি মুক্তিযোদ্ধা সদর উপজেলার ঘটকচর থেকে সমাদ্দার ব্রিজ পর্যন্ত চার কিলোমিটারজুড়ে অবস্থান নিয়ে গেরিলা হামলার প্রস্তুতি নেয়। ৯ ডিসেম্বর ভোরে গোলাবারুদ ও কনভয়সহ রাজাকার-আলবদরদের নিয়ে ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা দেয় পাক বাহিনী। ঘটকচর ব্রিজ অতিক্রম করতেই শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধাদের আকস্মিক আক্রমণ।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা সম্মুখ যুদ্ধের পর ১০ ডিসেম্বর বিকেলে গোলা-বারুদ ফুরিয়ে এলে মুক্তিযোদ্ধাদের হ্যান্ডমাইকের আহ্বানে আত্মসমর্পণে বাধ্য হয় হানাদাররা। মেজর আবদুল হামিদ খটক, ক্যাপ্টেন সাঈদসহ মোট ৫৩ জন পাকিস্তানি সেনা ও মুজাহিদ বাহিনীর সদস্যরা আত্মসমর্পণ করে খলিল বাহিনীর কাছে।
এই ঐতিহাসিক যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান খান। তাঁর নেতৃত্বে পাক সেনারা পুরোপুরি পরাজিত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে মাদারীপুর শত্রুমুক্ত হয়।
প্রতি বছরের মতো এবারও মাদারীপুর মুক্ত দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
খলিল বাহিনীর প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান খান বলেন,১০ ডিসেম্বর আমরা সম্মুখযুদ্ধে হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে মাদারীপুরকে মুক্ত করেছিলাম। দিনটি স্মরণে রাখতে জেলা প্রশাসন ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।