
মোঃ জসীম মিয়া
মাদারীপুর ।
পরিবারকে একটু ভালো রাখতে দালালের প্ররোচনায় শেষ সম্বল জায়গা জমি বিক্রি ও ধার দেনা করে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা করে প্রথমে যান লিবিয়ায়।লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে নিহত হন,মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের চর-বাজিতপুর গ্রামের দুই যুবক।
মানব পাচারকারী লোকমান সর্দার ঘটনাটি ফোন করে নিহতের পরিবারকে জানিয়ে,নিজেই লাপাত্তা।আর পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পাগল প্রায় দুই পরিবারের লোকজন। এদিকে প্রশাসন বলছে, দোষীদের বিরুদ্ধে নেয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।
মারা যাওয়া দুই যুবক হলেন- মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের চরবাজিতপুর গ্রামের লাল মিয়া বেপারীর বড় ছেলে জাফর বেপরী (৪০) ও একই গ্রামের হামেদ আলী হাওলাদারের ছেলে সিরাজুল হাওলাদার (৩৮)।
নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত অক্টোবার মাসে শেষ সম্বল বসতবাড়িটি বিক্রি ধার দেনা করে দালালের কাছে ১৫ লাখ টাকা তুলে দেন ধুরাইল ইউনিয়নের চরবাজিতপুর গ্রামের সিরাজুল হাওলাদারের স্ত্রী নিলুফা আক্তার। স্থানীয় মানবপাচারকারী একই গ্রামের লোকমান সর্দার সেই মাসেই লিবিয়ায় নিয়ে আটকে রাখেন সিরাজুলকে। এরপরে গেম দেয়ার নামে দফায় দফায় আরও ১৫ লাখ টাকা নেয়। ছেলের জীবন বাঁচাতে টাকার জোগাড় করতে সহায়-সম্পদ সব বিক্রি করে দেয় পরিবারটি।
কিন্তু ১০ নভেম্বর সেই দালাল লোকমান সর্দারই নিলুফা আক্তারকে মুঠোফোনে জানান, সিরাজুল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকা ডুবে মারা গেছেন। মরদেহটির খোঁজ নেই তার কাছেও। এ খবর পেয়ে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। একমাত্র উপাজনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পাগলপ্রায় পরিবারটি। আর মরদেহ দেশে আনার বিষয়ও খোঁজ নেই তাদের। লাপাত্তা দালাল লোকমান।
জানা যায়, একই ঘটনায় নৌকা ডুবে মারা যায় একই গ্রামের লাল মিয়া বেপারীর ছেলে জাফর বেপারী। মারা যাওয়ার খবরে দুই পরিবারেই যেন শোকর মাতম চলছে। প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসী ও স্বজনদের দাবি, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত লোকমান সর্দারকে খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দেয়ার।
এ ব্যাপারে মারা যাওয়া সিরাজুল হাওলাদারের স্ত্রী নিলুফা আক্তার জানান, আমার থাকার বাড়ি ও জায়গা বিক্রি করে টাকা দিয়ে ইতালি যাওয়ার জন্যে ছেলেকে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু দালাল লোকমান বলেছে, আমার ছেলে নৌকার তলা ফেটে পানিতে ডুবে মারা গেছে। তার লাশও নাকি সে দেখে নাই। এখন আমার বসবাস করার মতো কোন জায়গা নাই। দুই ছেলেকে নিয়ে কি করবো, সেটাও জানি না। আমি লোকমান সর্দারের বিচার চাই।
আর নিহত জাফর বেপারীর মা রাজিয়া বেগম জানান, আমার পোলার লাশটা চাই। আর কোন কিছু চাই না। দালালের ফাঁসি দেয়া হোক। আমার বড় পোলাকে মেরে ফেলছে।
জেলা পুলিশের তথ্য মতে, মাদারীপুরে গত এক বছরের অন্তত ২০ জনের সলিল সমাধি হয়েছে ভূমধ্যসাগরে। এ ঘটনায় একাধিক মামলা হলেও আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মানবপাচার করে আসছে দালালচক্র। এ ঘটনায় মামলা দিলে দোষীদের খুঁজে শাস্তির আশ্বাস দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি জানান, যদি নিহতের পরিবার আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়, তাহলে দ্রুতই দোষীকে গ্রেপ্তার করা হবে। এছাড়াও আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি।
মারা যাওয়া সিরাজুল দুই সন্তান আর জাফর বেপারী চার সন্তানের জনক। এদের মৃত্যুতে পুরো এলাকাবাসীসহ স্বজনরা ভেঙে পড়েছে। তাই মানবপাচারকারী লোকমান সর্দারকে খুঁজে গ্রেপ্তারের দাবি তাদের।মানবপাচারকারী লোকমান সর্দারের বিরুদ্ধে এর আগেও মানবপাচারের একাধিক মামলা রয়েছে।