
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মাদারীপুর ।
মাদারীপুরের কালকিনিতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ৬ জনকে কুপিয়ে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত রেজাউল ( ৩২ ) নামে একজন’কে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।গত ২০ তারিখ রবিবার রাত ৮ :০০ সময় কালকিনি পৌরসভার উত্তর কৃষ্ণনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় গত ২০ জুলাই থানায় মামলা দায়ের হলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় কৃষ্ণনগর বাজারে যায় রেজাউল খান (৩২) রাত ৮টার দিকে ফয়সাল সরদারের মুদি দোকানের সামনে আসলে, হঠাৎ করে বাসির বেপারি ও রফিক বেপারির নেতৃত্বে আরও ১৫/২০ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রেজাউলকে ঘিরে ধরে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে চাইনিজ কুড়াল ও সেনদা দিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে জখম করে এবং তার মাথায় একাধিক কোপ দেয়। রেজাউলের চিৎকারে ফয়সালসহ আশাপাশের লোকজন এগিয় এসে ফেরানোর চেষ্টা করলে তাদের উপরও হামলা চালিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে ঐ সন্ত্রাসীরা। পরে স্থানীয় আরও লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা হুমকি ধামকি দিয়ে চলে যায়। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে এদের মধ্যে রেজাউলের অবস্থার আশংকাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
গুরুতর আহত রেজাউল খানের বাবা,,আনোয়ার হোসেন খান বলেন,এই সন্ত্রাসী বাসির বেপারী,রফিক বেপারী ও তাদের বাহিনী এলাকায় মাদক সেবন, মাদক বেচাকেনা ও চাঁদাবাজি জোর জুলুম করে বেড়ায়, আমার ছেলে প্রতিবাদ করলে তাদের সাথে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এজন্য সন্ত্রাসী বাসির বেপারী,রফিক বেপারী ও তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী সবাই মিলে, আমার ছেলেকে হত্যা করতে চেয়েছিলেো। আমার ছেলেকে হত্যা করতে পারলে ওরা এলাকায়, সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম করতে পারবে।
আমার ছেলের অবস্থা ভালো না। তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আজ ৭দিন হয়ে গেল থানায় মামলা দায়ের করেছি। পুলিশ এখনো কোন আসামিকে ধরতে পারেনি।
যারা আমার ছেলেসহ অন্যদের ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে,আমি তাদের সকলের কঠিন বিচার চাই।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বিল্লাল হোসেন আজ সোমবার (২৮ জুলাই) মুঠোফোনে জানান, আসামি ধরতে আমাদের কোন গাফিলতি নেই। মামলার তদন্ত ও আসামি ধরার সর্বচ্চ চেষ্টা চলছে, শিগগিরই আসামিদের গ্রেফতার করতে পারবো বলে আমরা আশাবাদী।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন,থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের ধরার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা এখনো সম্ভব হয়নি। হামলাকারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।