
মোঃ জসীম মিয়া
মাদারীপুর ।
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় ৫ বছরের এক শিশুকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে হোসেন খাঁ (৫০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিশুটির পরিবার। রবিবার
(৫ এপ্রিল) রাতে মাদারীপুর পৌর শহরের সুমন হোটেল এলাকায় সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান শিশুটির মা।
সংবাদ সম্মেলনে শিশুটির মা ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়,শিশুটি তার মা ও বোনের সাথে ডাসার থানার আটিপাড়া গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে যায়। অভিযুক্ত হোসেন খাঁ একই এলাকার ফজলু হাওলাদারের জামাতা এবং দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করছেন।
ঘটনার দিন গত ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকালে, ভুক্তভোগী শিশুটিকে সাথে নিয়ে তার মা ফজলু হাওলাদারের উঠানে ধান শুকাতে যান। এই সুযোগে অভিযুক্ত হোসেন খাঁ শিশুটিকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন।
শিশুটির মা বলেন,আমি আমার মেয়েকে না পেয়ে খুঁজতে খুঁজতে ওই ঘরে যাই। তখন আমার মেয়ে কান্নাকাটি করে আমাকে সব বলে দেয়।এবং ধর্ষক হোসেন খা কৌশলে পালিয়ে যায়।
শিশুটির মা অভিযোগ করেন, ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অত্র এলাকার মেম্বার মজিবর, সাবেক মেম্বার আফজাল ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি মীমাংসার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, আমি তাদের প্রস্তাবে রাজি হইনি। এর ফলে এখন বিভিন্ন লোকজন দিয়ে আমাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পরদিন শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এবং শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকের রিপোর্টেও ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তবে মামলার একমাত্র আসামি হোসেন খাঁকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিশুর মা বলেন, দুই মাস হয়ে গেলেও পুলিশ তাকে ধরছে না। আমি আমার সন্তানের ওপর হওয়া এই পাশবিক নির্যাতনের বিচার চাই। অবিলম্বে ধর্ষক হোসেন খাঁকে গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানাই।
এ বিষয়ে ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: তরিকুল ইসলাম বলেন , পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন ।